শিক্ষক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক অশান্তির প্রতিবাদে দুর্গাপুরে কংগ্রেসের থানা ঘেরাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন জেলা সভাপতি প্রতিবেদন দুর্গাপুর

শিক্ষক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক অশান্তির প্রতিবাদে দুর্গাপুরে কংগ্রেসের থানা ঘেরাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন জেলা সভাপতি প্রতিবেদন দুর্গাপুর

গীতা অধিকারী, দুর্গাপুর

শিক্ষক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক অশান্তির প্রতিবাদে দুর্গাপুরে কংগ্রেসের থানা ঘেরাও, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন জেলা সভাপতি
প্রতিবেদন: দুর্গাপুর

রাজ্যজুড়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল ও পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে প্রদেশ কংগ্রেসের ডাকে রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি থানায় ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে দুর্গাপুরে নিউ টাউনশিপ থানার সামনে জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।

এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের অপদার্থতার জন্য পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলপন্থী শিক্ষক এবং চোর-ডাকাতদের বাঁচাতে গিয়ে গোটা একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই শিক্ষকরা যখন তাঁদের মৌলিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলনে নামছেন, তখন তাঁদের উপর পুলিশ নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করছে। যাঁরা জাতির মেরুদণ্ড, সেই শিক্ষকদের বুট জুতো পায়ে লাথি মেরে অপমান করা হচ্ছে। এটা ভদ্র সমাজের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব।”

দেবেশবাবু মুর্শিদাবাদ ও মালদহে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ওয়াকফ অ্যাক্টকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্য অগ্নিগর্ভ। মুর্শিদাবাদে তিনজন নিহত হয়েছেন, মালদহেও দাঙ্গার পরিস্থিতি চলছে। অথচ পুলিশ সেখানে কার্যত নিষ্ক্রিয়। তারা দাঙ্গা রুখতে ব্যর্থ হলেও শিক্ষকদের উপর দমননীতির প্রয়োগে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে।”

এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে। দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা সমস্ত থানায় সর্বদলীয় ‘পিস মিটিং’ ডাকতে বলেছি। এখনকার পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বদলে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বসা উচিত, যাতে শান্তি ও সামাজিক সৌহার্দ বজায় থাকে।”

থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে কংগ্রেস কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলেন এবং পুলিশের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন।

জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আন্দোলন এখানেই থেমে থাকবে না। রাজ্যজুড়ে শিক্ষক-সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মান ও অধিকার রক্ষার দাবিতে কংগ্রেসের লড়াই চলবে।


Click Here to Visit

What's Your Reaction?

like
0
dislike
0
love
0
funny
0
angry
0
sad
0
wow
0